• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের চায়না নতুন কোচ লক্কড়ঝক্কড়

বিশেষ প্রতিনিধি।। চীন থেকে আনা নতুন কোচ যুক্ত করে নীলফামারী-ঢাকা রুটে চালু করা হয় চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন। কিন্তু মাত্র দুই বছর না যেতেই চাকা ক্ষয়ে বাঁকা হয়ে যাওয়া, রানিংয়ে এক্সেল কয়েল স্প্রিং ভেঙে পড়া, রুফ সিলিং খুলে যাওয়াসহ কোচগুলোতে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে ট্রেনটিতে প্রায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। ফলে শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। গত রোববারও ইব্রাহামাবাদে চাকার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা শিডিউল বিপর্যয় হয় বলে জানা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনটি অনেকটাই লক্কড়ঝক্কড় হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ জুন চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল শুরু করে। ওই দিন ট্রেনটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চীনের থাংশানের কোম্পানি সিআরআরসি থেকে প্রায় দুই বছর আগে এ ট্রেনের কোচগুলো আমদানি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এসব কোচের ওয়ারেন্টি দুই বছরের। কিন্তু কোচগুলো ট্রেনে যুক্ত করার পরপরই দেখা দেয় নানা সমস্যা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রেন পরীক্ষক (টিএক্সআর) বলেন, কোচের চাকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্ষয় হচ্ছে। চলন্ত অবস্থায় ব্রেক প্যাড পড়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে নতুন কোচের স্প্রিং দুই থেকে তিন বছর পরে ভাঙলেও এক বছর না যেতেই রানিংয়ে এক্সেল কয়েল স্প্রিং ভেঙে যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রাইমারি ডাম্পার অকার্যকর, অস্বাভাবিকভাবে তেল লিকেজ হচ্ছে। দ্রুত পাওয়ার কার গরম হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

গত শনিবার সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকটি কোচের দরজা বরাবর ওপরের রুফ সিলিং নিচে নেমে যাচ্ছে। বেশির ভাগ ফ্যানই অচল।

চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী আরশাদ আলী বলেন, কোচে পানির ট্যাংক ভরা থাকলেও হ্যান্ড শাওয়ারে ও পানির কলে পানি আসে না। জানালার স্যুট বোল্ট (গ্লাস আটকে রাখার হুক) খুলে যায়। বায়ো টয়লেটের সরবরাহ লাইন দিয়ে মল ও নোংরা পানি পড়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ অবস্থায় ভোগান্তি নিয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে হচ্ছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সিঅ্যান্ডডব্লিউ মেশিন শপ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিজি এমডি-৫২৩ (চায়না-২০২৩) ১০০টি কোচ রেলওয়ের যানবাহন বহরে (রোলিং স্টক) যুক্ত হয়। এ কোচগুলো নিয়মমাফিক প্রতি এক বছর পরপর মেরামতে আসার কথা থাকলেও চাকার বিভিন্ন ত্রুটির কারণে দুইটার  বছরের আগেই বিশেষ রিপেয়ারের প্রয়োজন পড়ছে। এসব কোচ বিভিন্ন সময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামতে এলে চাকা টার্নিংয়ের সময় চাকায় ব্লোহোল বা ক্রাক দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবে চাকা ৮ মিলিমিটার থেকে ১০ মিলিমিটার টার্নিংয়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চায়না কোচে ব্লোহোল বা ক্রাকের কারণে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৫ মিলিমিটার থেকে ২০ মিলিমিটার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি টার্নিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে চাকার স্থায়িত্বকাল আগের চেয়ে অনেক কমে যাচ্ছে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন সৈয়দপুর কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান বলেন, চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচগুলো চীন থেকে এক বছরের কম সময়ে কেনা হয়েছে। এখনই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অথচ ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে আনা রেলের কোচ গত সাত-আট বছর চলছে সমস্যা ছাড়াই।

এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতনের সাথে। তিনি  বলেন, নানা কারণে  প্রায়শই চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে।এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি অন্যতম।  এতে করে যাত্রীদের কটু কথা শুনতে হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ